Islamic Article

আশুরার দিনে যা যা ঘটেছিল (PDF Download) | ১০ই মহররমের ইতিহাস | মহরম এর ইতিহাস

 আসছালামু আলাইকুম? সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনেরা সবাই কেমন আছেন? আসা করি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। প্রিয় পাঠকবৃন্ধ আজকে আমরা মহরম মাস নিয়ে আলোচনা করবো। এবং আশুরার দিনে যা যা ঘটেছিল (PDF Download)- ১০ই মহররমের ইতিহাস- মহরম এর ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করবো। 

   

       

    ১০ই মহররমের ইতিহাস 

    বন্ধুরা ১০ ই মহররমের ইতিহাস অনেক লম্ভা কাহিনী তাই বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করতে হবে। আমরা মহররমের ইতিহাস নিয়ে ২ টি বই এর পিডিএফ ফাইল শেয়ার করেছি ডাউনলোড করে প্ড়ে নিবেন। সেই বই থেকে সামান্য একটু কিচে তুলে ধরা হলো।

    আশুরার দিনের ঘটনা

    নিম্নে আশুরার উল্লেখযোগ্য ১০ ঘটনা তুলে ধরা হলো………..

    ১. আল্লাহ তাআলা এই দিন পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তার ইচ্ছায় এই দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে।

    ২. মানবজাতির পিতা হজরত আদম (আ.)-কে এই দিন জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। আবার এই দিন আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল করেন। এছাড়াও এ দিনে মানবজাতির মা হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে আরাফার ময়দানে পৃথিবীতে প্রথম সাক্ষাৎ হয় আদম (আ.)-এর।

    ৩. আল্লাহর নবী নুহ (আ.)-এর জাতির লোকেরা আল্লাহর নাফরমানি করেছিল। বারবার সতর্ক করার পরও তারা আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায়, আল্লাহর শাস্তি মহাপ্লাবনে নিপতিত হয়। দীর্ঘ প্লাবন শেষে মহররমের ১০ তারিখে তিনি নৌকা থেকে ঈমানদারদের নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন।

    ৪. আল্লাহর প্রিয়নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে অত্যাচারী বাদশাহ নমরুদ অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছিল। তিনি অগ্নিকুণ্ডে ৪০ দিন থাকার পর মহররমের ১০ তারিখ মুক্তি লাভ করেন।

    ৫. আল্লাহর নবী আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর কঠিন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এই দিনে মহান আল্লাহর রহমতে পূর্ণ সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য লাভ করেন।

    ৬. হজরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন ইয়াকুব (আ.)-এর ১২ সন্তানের একজন। ১১ ভাই ষড়যন্ত্র করে তাঁকে কূপে ফেলে দেয়। মহান আল্লাহর অনুগ্রহে এক বণিক দল তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর বণিকদলের প্রধান মিশরে গিয়ে তাঁকে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেন।

    পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ লাভ করেন। এরপর ১০ মহররম দীর্ঘ ৪০ বছর পর তিনি পিতা আইয়ুব (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    ৭. আল্লাহ তাআলার আরেক নবী হজরত ইউনুস (আ.)। তিনি জাতির লোকদের প্রতি হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর নদী অতিক্রম করে দেশ ছেড়ে চলে যেতে চান। পথিমধ্যে মাঝ নদীতে পতিত হন। আর তখন তাকে একটি বড় মাছ গিলে ফেলে। মাছের পেটে তিনি ৪০ দিন ছিলেন। এরপর ১০ মহররম আল্লাহর রহমতে মাছ তাকে নদীর তীরে ফেলে দেয় এবং তিনি মুক্তি লাভ করেন।

    ৮. বনি ইসরাইলের নবী হজরত মুসা (আ.)। তিনি ফেরাউনের জুলুম থেকে বাঁচতে সঙ্গী-অনুসারীসহ অন্যত্র চলে যান। নীল নদ পার হয়ে নিরাপদে পৌঁছে যান। আর অত্যাচারী ফেরাউন তার দলবলসহ নদীরে পানিতে ডুবে মারা যায়।

    ৯. ঈসা (আ.)-কে তাঁর জাতির লোকেরা হত্যা করার চেষ্টা করে। মহররমের ১০ তারিখ মহান আল্লাহ তাকে আসমানে উঠিয়ে নেন।

    ১০. কারবালার মর্মান্তিক বিয়োগান্তক ঘটনা। মহররম মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর নবী (সা.)-এর প্রিয় নাতি হোসাইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন।

     মহরম এর ইতিহাস

    কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা 

    আমাদের নিকট সুস্পষ্ট যে , কারবালার ইতিহাসের সাথে আশুরার রোজার কোন সম্পর্ক নেই । কিন্তু ঘটনা চক্রে হুসাইন [ রা;] -এর শাহাদাতের মর্মান্তিক ঘটনা দশই মোহররমেই ঘটেছিল । হুসাইন [রাঃ- ] -এর কারবালার প্রান্তে শাহাদাতের ইতিহাসে প্রবেশ করার পূর্বে আমরা আপনাদেরকে একটু আগের পর্বে নিয়ে যেতে চাই । ইসলামের তাওহিদী পতাকা যখন আল্লাহর জমিনে পপত্ করে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে উড়তে শুরু করল , তখন ইসলাম ও মুসলিমদের চিরশত্রু ইহুদি – খ্রীষ্টানরা বসে না থেকে , ইসলাম ও মুসলিম জাতির ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন প্রকার চক্রান্ত ও পলিসি হাতে গ্রহণ করা আরম্ভ করল । এর মধ্যে ইয়েমেনের অধিবাসী মুনাফেক আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার ইসলামি পোশাক ধারণ করা ছিল সবচাইতে মারাত্মক । সে একজন ইহুদির সন্তান ছিল । 

    এই মুনাফেকের মুসলিম রূপে আবির্ভাব হওয়ায় পরে ইসলামের মূল শিকড় কাটার জন্য সর্বপ্রথম পরিকল্পনা ছিল , উসমান ইবনে  আফফান [রাঃ ] কে হত্যা করা । তাই খলিফার বিরুদ্ধে মিথ্যা কিছু অপবাদ দিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা এবং কুরআন তেলাওয়াত করা অবস্থায় তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে । মাত্র ১৪ জন কুচক্রী সাবায়ী দল তৃতীয় খলিফা যুননূরাইনকে হত্যা ছিল হিজরি ৩৫ সালে । তিনি এ হত্যাকে নিজেই মেনে নিয়েছিলেন এ বলে যে , “ আমার কারণে মুসলমানদের মাঝে যেন রক্তপাত ও খুনাখুনি না ঘটে । ” তিনি এ বিদ্রোহের প্রতিবাদকারীদেরকে রক্ত প্রবাহিত হবে বলে সাবইকে চলে যেতে বলেন । তাঁর এ শাহাদাতের দ্বারা ফেত্নার দরজা উন্মুক্ত হয় এবং মুসলমানদের ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরে । এরপর সবার ঐক্যমতে খলিফা নির্বাচিত হলেন আলী ইবনে আবি তালিব [ রাঃ] কুচক্রীদল আলী [রাঃ ] -এর সৈন্যদলে কৌশলে প্রবেশ করে এবং তলে তলে তাদের কুমতলব চালাতেই থাকে । এদিকে মু’আবিয়া [ রাঃ] তখন সিরিয়ার গভর্নর নিযুক্ত ছিলেন । 

    তাঁর বংশের খলিফা উসমান [রা ] -এর হত্যার সঙ্গে জড়িত খুনিদের বিচার করার জন্য আলী [ রাঃ] – এর প্রতি জোরালো চাপ সৃষ্টি করেন । তবে তিনি আলী [রাঃ ] -এর খেলাফত বা তাঁকে অস্বীকার এবং খলিফার বিরুদ্ধে কোন প্রকার বিদ্রোহ করেননি । মু’আবিয়া [ রাঃ] কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল : আপনি কি আলী [রাঃ ] -এর খেলাফতের ব্যাপারে বিরোধিতা করছেন ? আপনি কি তাঁর অনুরূপ ? উত্তরে মু’আবিয়া [রাঃ ] বলেন : আমি অবশ্যই জানি আলী [ রাঃ] আমার চাইতে উত্তম এবং খেলাফতের বেশি হকদার ।

    কিন্তু তোমরা কি জান না ! উসমান [রাঃ ] কে মজলুম অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে ? আর আমি তাঁর চাচার ছেলে ? আমি তো শুধুমাত্র তাঁর খুনের বদলা চাই- নি : সন্দেহে একজন আত্মীয় হিসাবে মু’আবিয়া [ রাঃ] উসমান [ রাঃ ] – এর খুনিদের বিচার দাবি করার অধিকার ছিল । কিন্তু আলী [ রাঃ] একজন বড় মানের রাজনীতিবিদ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন । তাই তিনি বললেন : রাষ্ট্রের অবস্থা বর্তমানে নাজুক । এ পরিস্থিতিতে খুনিদের বিচারকার্য বাস্তবায়ন করা কঠিন । প্রথমে রাজ্যের বিশৃঙ্খলা ও ফেত্না আয়ত্বে আনতে হবে তারপর বিচার করা হবে । অন্য দিকে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে কিছু সাহাবীগণের পরামর্শে মা আয়েশা ( র 🙂 মক্কা হতে বাসরার দিকে রওয়ানা হন । কিন্তু অবস্থা বড় কঠিন দেখে তিনি অবাক হয়ে পড়েন । পথে আলী [ রাঃ] -এর সাথে আলোচনার পর তিনি মদিনায় ফিরে যাওয়ার সংকল্প করেন । কিন্তু ঐ কুচক্রীদলটি রাত্রে অতর্কিতভাবে মা আয়েশা ( রা : ) – এর সঙ্গীদের উপর হামলা চালায় । যার ফলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে । ঐ দিকে মু’আবিয়া [রাঃ ] তাঁর মতের উপরেই অনঢ় থাকেন । 

    অন্যদিকে আলী [ রাঃ] মু’আবিয়া [ রাঃ] কে বাধ্য করার জন্য মদিনা থেকে বের হন । সিরিয়ার সিফফীন নামক স্থানে পৌঁছলে সেখানে দু’দলে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে লিপ্ত হয় । পরিশেষে দু’দলের মাঝে সন্ধি দ্বারা সমস্যার সমাধান হয় । এ সন্ধিকে কেন্দ্র করে আলী [রাঃ] -এর দলের লোকেরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে । একটি শিয়া তথা নিজের দল । আর অপরটি খারেজী তথা বিদ্রোহী দল । আর এটাই ছিল ইসলামে সর্বপ্রথম দলাদলির সূচনা । ঐ ইহুদি মুনাফেক দলটি গোপনে গোপনে ইসলামের বিদ্বেষ আরো শক্তিশালী করার জন্য গোপনে ষড়যন্ত্র আঁটে । তারা তিনজন মানুষকে নিযুক্ত করে তিনজনকে হত্যা করার জন্য । খারেজী আব্দুর রহমান ইবনে মুলজেমকে আলী [রাঃ] কে হত্যা করার জন্য এবং অপর দু’জনকে মু’আবিয়া ও আমর ইবনে ‘ আস [রাঃ] কে হত্যা করার জন্য । কিন্তু ইবনে মুলজেম আলী [ রাঃ ] কে হত্যা করতে সক্ষম হলেও অপর দু’জন ব্যর্থ হয় । ইহা ছিল ৪০ হিজরির ঘটনা । ঐ দলটি এ হত্যার দায়ভার চাপিয়ে দেয় মু’আবিয়া [রাঃ ] -এর উপর । যেহেতু দু’জনের মাঝে রাজনৈতিক সমস্যা ছিল বিদ্যমান । 

    তাই বাহ্যিকভাবে সাধারণ মানুষরা ধোঁকায় পড়ে গেল । আলী [রাঃ ] -এর হত্যার পর খেলাফতের দায়িত্ব নিলেন তাঁর বড় ছেলে হাসান [ রাঃ ] । তিনি মাত্র ছয় মাস খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন । এরপর তিনি মুসলমানদের দু’টি দলের মাঝের ফেত্নাকে নিভানোর জন্য নিজে ও ছোট ভাই হুসাইন [রাঃ ] কে সঙ্গে করে মু’আবিয়া [রাঃ ] -এর নিকট গেয়ে তাঁর হাতে বায়েত গ্রহণ করেন ।

     আর এটা ছিল রসুলুল্লাহ [রাঃ ] -এর ভবিষ্যত বাণীর বাস্তবায়ন ; কারণ নবী [রাঃ ] বলেন : “ নিশ্চয়ই আমার এ সন্তান সাইয়েদ ( সর্দার ) । আল্লাহ তা’য়ালা তার দ্বারা মুসলমানদের বিরাট দু’টি দলের মাঝে আপোস করে দিবেন । ” এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভাবেই চলতে থাকে ।

     দীর্ঘ বিশ বছর ধরে মু’আবিয়া [রাঃ] দক্ষতার সহিত রাষ্ট্র পরিচালনা করেন । মু’আবিয়া [রাঃ ] হাসান ও হুসাইন [রাঃ] কে সম্মান করতেন । প্রতি বছর তাঁরা মু’আবিয়া [রাঃ ] -এর নিকট যেতেন এবং তিনি তাঁদেরকে এক লক্ষ করে দিরহাম দিতেন । একবার চার লক্ষ দিরহাম পুরস্কার দেন । হাসান [রাঃ] -এর মৃত্যুর পর হুসাইন [রা; ] মু’আবিয়া [রা;] -এর নিকট যেতেন এবং তিনি তাঁকে আহলে বাইতের যথাযথ সম্মান ও মহব্বত করতেন । হিজরি ৫০ সালে মাদীনাতু কাইসার শহরে ( অর্থাৎ রোম সম্রাটের শহর ইস্তাম্বুলে ) বিজয়ের জন্য সৈন্যদল পাঠানোর সময় মু’আবিয়া [রাঃ] হুসাইন [রাঃ] কে ডেকে পাঠালে তিনি তাতে শরিক হন । আর সে সেনাদলের সেনাপতি ছিলেন মু’আবিয়া [রাঃ] -এর ছেলে এজিদ ( রহ 🙂 । রসুলুল্লাহ [রাঃ] এ যুদ্ধ সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়ে বলেন : “ আমার উম্মতের যে প্রথম সৈন্যদলটি কাইসার শহরে ( ইস্তাম্বুলে ) যুদ্ধ করবে তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত । নি:সন্দেহে এ হাদীসটি এজিদ ইবনে মু’আবিয়া [ রহঃ ] সম্পর্কে যারা মিথ্যা অপপ্রচার করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত দলিল ।

    আশুরার দিনে যা যা ঘটেছিল (PDF Download) 

    আশুরা ও কারবালা Pdf Download  

    সূচিপত্র 

    1.  লেখকের আবেদন
    2.  আশুরার অর্থ
    3.  আশুরার ফজিলত.
    4.  আশুরার রোজা রাখার নিয়ম
    5.  আশুরার কিছু বিধান
    6.  আশুরার রোজা ও মানুষের প্রকার 
    7.  কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস
    8.  সমস্যার সূচনা 
    9.  আহলে বাইতের যারা শহীদ হলেন
    10.  কারবালা ও মানুষের প্রকার 
    11.  কারবালা কেন্দ্রিক বিদাত , কুসংস্কার ও  মিথ্যা কেচ্ছা – কাহিনী 
    12.  মিথ্যা ও কুসংস্কার মূলক একটি কেস্সা 
    13.  কারবালা ও কিছু জাল – য‘য়ীফ হাদীস 
    14. উপসংহার
     Title  আশুরা ও কারবালা
     Page  64
     Size  2 Mb

    Click Here To Download 

    আশুরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয় Pdf Download  

    আশুরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয় Pdf Download

     Title  আশুরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয় PDF
     Page  33 
     Size  940 kb

    Click Here To Download 

    টাগঃআশুরার দিনে যা যা ঘটেছিল (PDF Download), ১০ই মহররমের ইতিহাস,মহরম এর ইতিহাস

    Related Articles

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Back to top button