Islamic Article

সিগারেট/ধুমপান কেন হারাম | সিগারেট খাওয়া মাকরূহ কেন | সিগারেট হারাম নাকি মাকরুহ -ধূমপান/সিগারেট নিয়ে হাদিস

আসছালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠকবৃন্ধ সবাই কেমন আছেন। আসা করি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। প্রিয় পাঠক পাঠিকা আজকে আমরা সমাজে প্রচলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে আলোচনা করবো সেটা হলো সিগারেট খাওয়া কি হারাম নাকি মকরুহ -সিগারেট নিয়ে হাদিস কোরআন হাদিসের আলোকে আমরা এটির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

শরীয়তের বিধানের সকল কিছুর স্পষ্ট দলীল নেই। আর না থাকলে কোন জিনিস যে হালাল, তা নয়। শরীয়তের স্পষ্ট উক্তিসমুহ থেকে ফকীহগন এমন কিছু নীতি নির্ণয় করেন, যার দ্বারা বলা যায় কোনটা হালাল, আর কোনটা হারাম। যে সকল নীতির মাধ্যমে বিড়ি-সিগারেটকে হারাম করা হয়, তার কিছু নিম্নরুপঃ-

(ক) এতে রয়েছে অনর্থক অর্থ অপচয়। আর ইসলামে অপচয় হারাম।
(খ) এতে রয়েছে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি। আর যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ইসলামে তা হারাম।
(গ) বেশি পরিমাণ পান করলে, তাতে জ্ঞানশূন্যতা আসতে পারে। আর যাতে নেশা, মাদকতা ও জ্ঞানশূন্যতা আসে, ইসলামে তা হারাম।
(ঘ) এতে দুর্গন্ধ আছে। এর দুর্গন্ধে অধূমপায়ীরা কষ্ট পায়। সুতরাং তা পবিত্র জিনিস নয়। আর ইসলাম পবিত্র জিনিস খাওয়াকে হালাল এবং অপবিত্র জিনিস খাওয়াকে হারাম ঘোষণা করেছে।

       

       

    সিগারেট কেন হারাম

    সিগারেট হালাল নাকি হারাম? কোরআন হাদীস কি বলে? 

    ধূমপান নিয়ে হাদিস | সিগারেট নিয়ে হাদিস

    ★ সিগারেটের গায়ে লেখা থাকে “ধুমপান মৃত্যু ঘটায়”।
    – আল্লাহ পাক বলেন,
    “তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।” [বাকারা-১৯৫]

    ★ সিগারেট নেশাজাতীয় জিনিস।
    – নবী করিম (সাঃ) বলেছেন,
    “প্রত্যেক নেশার বস্তুই মাদক (খামার) আর প্রত্যেক নেশার জিনিসই হারাম।” [মুসলিম-২০০৩]

    ★ কেউ একসাথে ১০টি সিগারেট খেলে তার নেশা হতে বাধ্য।
    – রাসূল (সাঃ) বলেছেন:-
    “যা অধিক সেবন করলে নেশার সৃষ্টি হয় তা কম সেবন করাও হারাম।” [তিরমিযি-১৮৬৫, আবু দাঊদ-৩৬৮১]

    ★ সিগারেট অপবিত্র জিনিস।
    – আল্লাহ পাক বলেন, “তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল ও অপবিত্র বস্তু হারাম করা হয়েছে।” [আরাফ-১৫৭]

    ★ সিগারেটে অপব্যয় ছাড়া অন্য কিছু নয়।
    – আল্লাহ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই অপব্যায়কারী শয়তানের ভাই।” [সূরা ইসরা-২৭]

    ★ সিগারেটের ধোঁয়ায় মানুষ চরম কষ্ট পায়।
    – রাসূল (সাঃ) বলেন,
    “যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।” [বুখারী]

    ★ সিগারেট পুষ্টিকর কিংবা ক্ষুধা নিবারণ মূলকও কিছুই নয়। 

    – জাহান্নামীদের খাবার প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন, “এটা তাদের পুষ্টিও যোগাবে না ক্ষুধাও নিবারণ করবে না।” [গাশিয়াহ-৭]
    এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নিন-
    এই ধুমপান করবেন, নাকি ছাড়বেন?

    সিগারেট খাওয়া মাকরূহ কেন

    ‘ধূমপানের কথা যদি বলতে হয়,অনেক বছর আগে যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নত হয়নি বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ সে সময় বলতেন যে ধূমপান মাকরূহ। একটা হাদীসের উপর ভিত্তি করে বলা যেটা আছে সহীহ বুখারীতে (খণ্ড নং-১,অধ্যায়-আযান,হাদীস নং-৮৫৫) নবীজী (ﷺ) বলেছেন,“কখনোও কেউ যদি কাঁচা রসুন বা পেঁয়াজ খায় সে আমার কাছ থেকে,মসজিদ থেকে দূরে থাকবে।”

    নবীজী (ﷺ) বলেছেন, পেঁয়াজ বা রসুন খাওয়ার পরে মসজিদে এসো না কারণ বাজে গন্ধ বের হয়। আর ধূমপান করলে তো আরও বাজে গন্ধ বের হয়। পেঁয়াজ, রসুনের চেয়ে বেশি গন্ধ। এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে যেহেতু পেঁয়াজ বা রসুন খাওয়া মাকরূহ, এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞগণ ফতোয়া দিলেন ধূমপান করা মাকরূহ।
    পাকিস্তান,বাংলাদেশ বা আমাদের ভারতের বিশেষজ্ঞগণ বলেন এটা মাকরূহ কিন্তু পুরো পৃথিবীতে বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞই বলেন ধূমপান “হারাম”। তা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি।

    সিগারেট হারাম নাকি মাকরুহ

    উত্তরঃ- উপরে উল্লেখিত কোরআন ও হাদিসের দলিল প্রমান অনুযায়ী সিগারেট খাওয়া হারাম মকরুহ নয়। 

    Tag:সিগারেট কেন হারাম,ধুমপান কেন হারাম  সিগারেট খাওয়া মাকরূহ কেন,  সিগারেট হারাম নাকি মাকরুহ,ধূমপান নিয়ে হাদিস,সিগারেট নিয়ে হাদিস

    Related Articles

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Back to top button